এইচ এম এরশাদ আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা:-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নতুন “পারস্পরিক” শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বেশ কয়েকটি দেশ এবং প্রধান অর্থনীতির দেশগুলো এই নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
নতুন শুল্কের বিশদ বিবরণ
ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপর ২০% শুল্ক আরোপ করেছে, যা ইইউ নেতারা “অন্যায্য” বলে অভিহিত করেছেন। চীনের ওপর ৩৪% এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড এবং পোল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশ শুল্ক বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া
চীন: চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই নতুন শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে।” তারা জানিয়েছে, চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু বলেছেন, “এই বাণিজ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।” তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়।
ব্রাজিল: লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ব্রাজিল জানিয়েছে, তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেবে।
পোল্যান্ড: পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, “বন্ধুত্বের মানে হচ্ছে অংশীদারত্ব, এবং অংশীদারত্ব মানেই প্রকৃত পারস্পরিক শুল্কনীতি।”
অস্ট্রেলিয়া: প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, “এটি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ নয়,” তবে দেশটি প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেনি।
সুইজারল্যান্ড: সুইস প্রেসিডেন্ট কারিন কেলার-সাটার জানিয়েছেন, তারা দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী জনাথন রেনল্ডস বলেছেন, “আমরা শান্ত ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চাই, তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব বিকল্প খোলা রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ২২% ছুঁয়েছে
নতুন শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার ২২% এ পৌঁছেছে, যা ১৯১০ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।
রাশিয়া শুল্কের আওতার বাইরে
যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্কের তালিকায় রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেনি, কারণ রাশিয়ার ওপর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল।
জার্মান অটোমোবাইল শিল্পের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতিকে “সব পক্ষের জন্য ক্ষতিকর” বলে উল্লেখ করেছে জার্মান অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন। তারা ইইউ-কে সম্মিলিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি এশীয় দেশের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে জাপানের ওপর ২৪%, দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫% এবং তাইওয়ানের ওপর ৪৬% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও ভিয়েতনামের ওপর ৪৯% এবং কম্বোডিয়ার ওপর ৪৬% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, “এই দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করে আসছে।”
বিশ্বের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক নীতি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা গভীর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।